সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন

চঞ্চল সাহাঃ কলাপাড়ায় মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানে অনুরোধক্রমে নির্দেশনা প্রদান করায় মাউশিকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সহ জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষকরা এ অভিনন্দন জানান। গত ১৭/১০/২০২৩ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস ৩৭.০২.০০০০.১০৫.২৭.০০৯.২০.৮১৪ নাম্বার স্মারকে এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিকে, বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশ প্রদান করায় মাউশিকে স্বাগত জানিয়েছেন
কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর কলাপাড়া উপজেলার সভাপতি শামসুল আলম,তিনি তাঁর বক্তব্য বলেন’মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারী বিধি মোতাবেকই এ নির্দেশনা প্রদান করেছেন । তাতে যে দায়িত্ব পায় তাকেই দেয়া উচিৎ এখানে আবেগের কোন বিষয় নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক শাহিনা পারভীন সীমা বলেন, সরকারী নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অবৈধ উপায়ে কোন পদে কারোর থাকার কোন সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে মাউশির পদক্ষেপ বিধি সম্মত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলাপাড়া মহিলা কলেজের বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জহির উদ্দিন মো.ফারুক জানান, সরকারী বিধি অনুযায়ী মাউশি থেকে সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলমকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কলেজের সকল শিক্ষক ,কর্মচারীরা এ আইনকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহন করেছেন। যারা খাম-খেয়ালীপনা করেন কিংবা সরকারী বিধি মানেন না তাদের বিরুদ্ধে মাউশি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।
একই কলেজের ভুগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো.মুনসুরুল আলম বলেন’ সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ একজন বিনয়ী এবং মার্জিত স্বভাবের শিক্ষক । তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রোপাকান্ডা ছড়িয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকারের অপচেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নিখিল চৌধরী জানান, শিক্ষক আবুল কালামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে, তিনি দল নিরপেক্ষ একজন মানুষ, তাকে ফাঁসাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল নেয়া হচ্ছে। তবুও শিক্ষক হিসেবে আমাদের সংবধিান রয়েছে, সে অনুযায়ী কলেজ পরিচালিত হবে এটাই স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, জ্যেষ্ঠতা লংঘন জনিত কারনে গত ১/৬/২০২৩ কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে একটি আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০/৭/২০২৩ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস ১২ কর্ম দিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অধ্যক্ষ পটুয়াখালী সরকারী কলেজ মনোনীত বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার দুইজন কর্মকর্তাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের রির্পোটের আলোকে মো.মঞ্জুরুল আলম জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে তৃতীয় হওয়া সত্বেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা -২০২১ এর ধারা ১৩ এর লংঘন উল্লেখ করে কেন তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না মর্মে তাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কারন দর্শানোর জন্য ১০/৯/২০২৩ এবং পরবর্তীতে ২৬/৯/২০২৩ পৃথক দু’টি নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে একই সময় উল্লেখ করে কলেজ গর্ভনিংবডির সভাপতিকে মতামত প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন।
অপরদিকে, গত ১৭/১০/২০২৩ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তপন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে প্রথম, আবুল কালাম আজাদকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য গভর্নিংবডির সভাপতিকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো.সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন,স্পষ্ট একটি বিষয়কে এক শ্রেনীর মানুষ ঘোলাটে করে তুলছে, তারা পরিপত্র বুঝতে চায় না, খাটাতে চায় শুধু নিজের গায়ের জোর।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply